Thursday, 26 November 2015

আমি



হয়েই আমি নেয়ে ধুয়ে,
মায়ের কোলে শুই 
কেঁদে উঠলাম একটু আগে ,
হবে মিনিট দুই ।।

লাল চামড়া হাতটা মোড়া ,
চোখ খুলি না আমি 
বাবা কোলে নিলেন যেন ,
সোনার চেয়েও দামী ।।

ছোট্ট আমির মাথা ভরা চুল,
নখ গুলো খুব ছোট 
মা এর কোলে দিয়ে বাবা ,
তোলেন একটা ফটো ।।

বোঁটকা একটা গন্ধ গায়ে,
দিচ্ছি এখন হামা 
কদিন পরে খাওয়াবে ভাত,
ঘরে এসে মামা ।।

চলছি আমি থুপুক থুপুক,
দিচ্ছি ঢেলে জল 
কখনও বা কলম চালাই,
হারিয়ে ফেলি বল ।।

বলতে পারি ছড়া আমি ,
চিনতে পারি ছবি 
মেঝেয় বসে আঁকি আমি,
অনেক মাছ আর পাখি ।।

সাজি আমি যাব বলে,
বাবার কোলে চড়ে 
বাবা যাবেন ভুটভুটিতে,
শুনেই কান্না ঝরে  ।।

দিন কয়েকের জন্য বাবা,
কাজে গেলেন চলে 
রাত দিন তাই মাকে কাঁদাই,
বাবা যাব বলে ।।

চার বছরে ভাইকে পেলাম,
ভুল করেছি যদি 
ভাই শিখবে তোমায় দেখে,
তুমি যে এখন দিদি ।।

                  - Moumita Sahu  



বাড়ির পথে অন্ধ্র

কাঁটা বন, ফাঁকা মাঠ, তালেদের সারি ।
যত দুর চোখ যায়, নাই কোন বাড়ি ।।

ট্রেন চলে দুলে দুলে, পার হয় রাতি ।
নয় সে ক্লান্ত, নাইক বিরতি ।।

কোথাওবা ছোট নদী, ছোট কুঁড়ে ঘর ।
কোথাওবা পাহাড়েতে গড়েছে শহর ।।

বড় বড় চাষ জমি করেছে লাঙল 
রাখাল বালক সাথে ভেড়াদের দল ।।

বেলা আর কাটে না যে, ক্লান্ত লাগে ভাই ।
সময় আজ বহে নাকও, নদী স্রোত প্রায় ।।

পাহাড়ের এক কোলে শস্যের ক্ষেত ।
তার মাঝে দাড়িয়েছে ঠিক যেন প্রেত ।।

ধারে ধারে নারিকেল গাছেদের সার ।
নির্জন প্লাটফর্ম যাই হয়ে পার ।।

সবুজ মাঠের পর সারি সারি গাছ ।
হাজার শিশু বসে এঁকে গেছে আজ ।।

কত দুর আর, মন উসখুস করে 
চেনা গন্ধ , কাশফুল, ঢাকের তরে ।।

তাল বন মাঠ ঘাট যায় দূরে সরে ।

পৌঁছব আমি আর ঘণ্টা বার পরে ।।
                  
                           - Moumita Sahu


Tuesday, 24 November 2015

ছোট্ট বেলার খেলা

পাশের বাড়ির পেছনে এক মস্ত বড় গাছ ।
আছে একটা ডোবা মতো, নাইতো তাতে মাছ ।।

তারি চারি ধারে মোরা করি ঘোরাঘুরি ।
দেখবি ম্যাজিক? বলেই কতো তুলি টগর কুঁড়ি ।।

বিকেল বেলা ক্রিকেট খেলা, নয়তো কুমীর ডাঙ্গা ।
কখনও বা লুকোচুরি, কখন হাঁড়ি ভাঙা ।।

কারো ফাটলো মাথা আবার কারো কাটল পা ।
তবুও খেলা থামল নাতো, হোক সে যন্ত্রনা  ।।

ঘরে বসে পুতুল খেলা, সেজেছি বৌ বর ।
বড় দাদা এলেই মোদের ভাঙত খেলার ঘর ।।

তিনটে ইটে উনুন বানাই, জ্বালানী দিই কাঠি ।
ঘরের খাবার বাইরে খেয়ে হোল চড়ুইভাতি ।।

কৃষ্ণচুড়ার ফুলে ফলে করি কতো লড়াই ।
বঁড়শী দিয়ে পুঁটি ধরে করতে পারি বড়াই ।।

পুকুর ঘাটে সাঁতার কেটে জলকে করি কাদা ।
বালির গুহায় ঢুকতে গিয়ে হলাম পুরো সাদা ।।

কাগজ দিয়ে নৌকা বানাই, বানাই উড়োজাহাজ ।
স্কুলের শেষে ভিজলে পরে, দেখবে মায়ের মেজাজ ।।

সরস্বতী পুজো এলো ভাঙল সবার ঘুম ।
জামা ছেড়ে শাড়ি পরার লেগে গেল ধুম ।।

বড় হলাম সবার মতো, হোল বছর পার ।

স্বপ্নে আসে ছোট্টবেলা, ফিরবে না যা আর ।।  
                                  - Moumita Sahu

Monday, 23 November 2015

পাহাড়ি নদী

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
জন্ম নিলাম তুষার জলে,
কোন সে সুদূর পর্বতশীরে।
কেউ জানে না উৎস কোথায় ,
আমি যে বন্দী ভেতর গুহায়

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
কখনও ঘোলা কখনও স্বচ্ছ,
কখনও উত্তাল কখনও শান্ত।
কতো পাহাড় পাথর ভেঙ্গে,
নেমে এলাম তোমার সনে।
বুঝিনি নিচে এত বড় খাদ,
নামতে গিয়ে হবো ছুরমার।

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
আমার ভাঙন দেখতে এসে,
কেউ বা কাঁদে কেউ বা হাসে।
তারপর পাই সমভূমি,
লোকে বলে মরুভূমি।

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
মরুভূমে আসার পরে,
দু-দশ টা চারা গজাল পাড়ে।
মুক্ত আকাশ তপ্ত বাতাস,
চিন্তা করার নাই অবকাশ।
বেশ কিছু দিন কাটল এমন,
মরুভূমি বলল প্রথম,
কি হয়েছে? উদাস কেন?
উদাস তো নই, ক্লান্ত এখন।

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
এখানে বড়ই একা আমি,
দু-দশ টা ঘাস আর মরুভূমি।
বসে বসে ভাবি আমি,
ছিলাম পাহাড়ি নদী আমি।
ভয় পেত সব আমায় দেখে,
এখন সবাই মা মা ডাকে।
দু-দশ টা ঘাস হাজার হোল,
মানুষ কিছু ঘর বানাল।
মরুভূমি এখন সবুজ,
নাম হয়েছে তার কালিভুজ।


আমি যে সেই পাহাড়ি নদী!
কেউ এসে তাঁর চাল ধুয়ে যায়,
কেউ বা সাঁতরে ওপারে যায়।
মরুভুমি শহর হোল,
দুই পাড় আমার বেঁধে দিল।
কেউ বা এসে মরা ভাসায়,
কেউ বা নিজের পাপ ধুয়ে যায়।
ধুপ ধুনা আর পচা ফুলে,
ওঠে আমার গা গুলিয়ে।

আমি যে সেই পাহাড়ি নদী,
মনে পড়ে যায় উত্তাল জল,
খরস্রোতা স্বচ্ছ শীতল।
কষ্ট ছিল সত্য ছিল,
শব্দ হত খল বল খল।
দুঃখে রাগে অভিমানে,
বলি শুধু মনে মনে।
নাই বা হতে এতই কঠর,
এতই বিমুখ এতই নিঠুর।
হারিয়ে যেতাম তোমারই কোলে,

ডাকতো না কেউ মা মা বলে।


                       - Moumita Sahu