Tuesday, 1 December 2015

পাঠশালা

ছোট্ট শিশু আমি তখন,
পড়ি পাঠশালায় ।
পড়তে বসি বিশ ত্রিশ জন,
সমুখে মাস্টার ।।

হাত পাততাম মারের তরে,
পড়া না পারলে ।
কালিপদ মাস্টার তাই,
মারেন সজোরে ।।

হাত ফেটে যায় রক্ত ঝরে,
অসহ্য যাতনা ।
নোংরা হত কাপড় চোপড়,
তাতেও ভৎসনা ।।

ভোরে ওঠার চেষ্টা আমার,
হত প্রায়ই ব্যার্থ ।
মারের শেষে রোজই আমি,
দিই গালি অকথ্য ।।

সেসব দিনের কথা আমার,
আজও মনে পড়ে ।
ক্ষমা করো গুরুমশা্‌ই,
চাইছি কর জোড়ে ।।

            
                 - Moumita Sahu

Monday, 30 November 2015

আকর্ষণ


সূর্য ঘোরে নিজের ঘোরে, ঘোরে চন্দ্র ধরা ।
কেন ঘোরে শুধু শুধু ?
বুজলি নাতো তোরা ।।

সূর্য হল মা পৃথিবীর, পৃথিবীটা ছা ।
পৃথিবীটা তাই কখনো,
ঘোরা থামায় না ।।

চাঁদ হল এক ছোট্ট শিশু, পৃথিবী তার মা ।
এবার বুজলি ,
কেন চাঁদও কোথাও পালায় না ?

সবাই থাকে মায়ের কাছে, ঘোরে আশেপাশে ।
আকর্ষণ না বিকর্ষণ,
যায় আসে কি তাতে ?

ওরা সবাই জড় বস্তু , অজান্তেই সব ঘোরে ।
তোরা তো সব জীবনমুখী,
বুঝবি কেমন করে ?

ছিঁড়ল গ্রহ বাঁধন যখন, থাকল না আর ঘরে ।
গ্রহ থেকে হল পার্টিকেল,
রইল না সৌর সংসারে ।।

যাচ্ছিস তুইও ছেড়ে চলে, তোরই আকর্ষণ ।
পরিচয়হীন হবি এবার,
হারাবি আপনজন ।।
            
                 - Moumita Sahu

Sunday, 29 November 2015

ঘরবাড়ি

আমার যেটা বাসাবাড়ি,
তোমার সেটা ঘর ।
ভাড়া দিয়ে থাকি আমি ,
তুমি দেশান্তর ।।

বাড়ি বলল প্রথম আমায়,
‘তুমি তো আমার পর’ ।
আমি বললাম,
‘চার দেওয়ালের আপন কিবা পর’ !

সেদিন থেকে ঘরটা তোমার,
থাকলো চুপ চাপ ।
আমিও থাকি আমার মতো,
যে যার মতোই থাক ।।

বেশ কিছু কাল কাটলে পরে,
হলাম সংসারী ।
তোমার ঘরেই এখনো আছি,
আমরা সুখসারি ।।

তোমার ঘরের ভাব হয়েছে,
আমার সারির সাথে ।
বাসার প্রতি সারির একটা,
ভালবাসা আছে ।।

সুখ ও সারির দুটো ছানা,
খেলে লুকো চুরি ।
তোমার ঘরের কোনায় কোনায়,
আমার বাসাবাড়ি ।।

সপ্নে আমি রোজই দেখি,
নিজের সুখের ঘর ।
সেটা দেখতে একই রকম,
যেমন তোমার ঘর ।।

শেষকালে এক বিশাল মাপের,
গড়েছি নিজের ঘর ।।
বাসা বলল , ‘ তুমিও আমায়,
করলে শেষে পর ’!

এখন আমি নিজের ঘরে,
আমার অবসর ।
কলিং বেলের শব্দে আমার,
ভাঙল ঘুমের ঘোর ।।

অচেনা সব লাগে চোখে,
চিনতে চেষ্টা করি ।
এইটাই কি আমার ঘর ?
নাকি বাসাবাড়ি !

-Moumita Sahu


Friday, 27 November 2015

নীল সাদা সবুজ

নীল রঙা শাড়ি তার,
পাড়ে সাদা ফুল ।
আঁচল সবুজে ঢাকা ,
দুলছে দোদুল ।।

সবুজ আঁচলে আজ,
শত ছিন্ন ।
অন্য সুতা নাই তার,
সাদা ভিন্ন ।।

সেলাই করেছে শুরু,
নীল জমি থেকে ।
একদিন সাদা সুতায়,
যাবে সে ঢেকে ।। 

              -Moumita Sahu

আগুন

আগুন! আগুন! আগুন!
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

ক্ষুধায় শিশুর পেটে আগুন,
কারো চোখের জলে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

কিশোর বেলার সপ্নে আগুন,
যৌবনের সংকল্পে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ !

খরায় চাষির মাঠে আগুন,
শিল্পীর কল্পনাতে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

বুড়ো বাবার আশায় আগুন,
বুড়ি মায়ের স্নেহে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

শোষক শ্রেণীর চোখে আগুন,
শাসক শ্রেণীর হাতে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

বক্তব্যের ভাষায় আগুন,
শ্রোতায় কানের ভেতর আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

লেখকের কলমে আগুন,
পাঠক মনের মধ্যে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

লোভী লোলুপ জিভে আগুন,
নির্যাতিতার শরীরে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

তোমার চারিপাশে আগুন,
খেলছ তুমি নিয়ে আগুন,
আর, তুমি ভাবছো ফাগুণ!

                    - Moumita Sahu

কালী কাহিনী

টুকটুকে বউ এলো কুচকুচে কালো ।
রং নিয়ে কি হবে ? কাজে কামে ভালো ।।

এক গাছি চুল আছে, কোমর ছাড়ায় ।
খয়ের পানেতে দিয়ে খিলি পান খায় ।।

ঘুমায় সাঁজের বেলা, উঠে পড়ে ভোরে ।
কোমরে কাপড় গুঁজে, কাজে নেমে পড়ে ।।

ধান সেদ্ধ, মুড়ি ভাজা, রেঁধে ফেলে ভাত ।
যেন দুটি নয় তার, আছে চার হাত ।।

মা,মাসি,কাকী,জেঠী কেউ বা ডাকে কালী।
আসল নাম কি ছিল তার, নিজেই গেছে ভুলি ।।

পালা শুনতে গেল শাশুড়ি, সঙ্গে পাড়াপড়শি ।
সন্ধ্যে পরেই ঘুমলো কালী, সেদিন চতুর্দশী ।।

মধ্যরাতে পড়ল ডাকাত, কোরে হারে রে রে ।
ওমনি কালী উঠে দাঁড়ায়, বলল ওখানে কেরে ?

গাহনাগাঁটি টাকাকড়ি নিল কাঁসার বাসন ।
কালী দাঁড়াল রুখে যখন, ছিনল তারি বসন ।।

রুদ্র কালী তুলল খড়গ, করল তাদের ক্ষান্ত ।
মা বলে কেউ শান্ত হল, কেউ হল দিক ভ্রান্ত ।।

পালাল কোন শয়তান এক, ধেয়ে গেল তার পিছে।
হাতে খড়গ কাটা মুণ্ডু, দেখল না সে নিচে ।।

নেশার ঘোরে ভাসুর ঠাকুর দুয়ারেতে পড়ে ।
গুরুঞ্জ্যানহীন কালী তখন দাঁড়ায়ে তাঁরি ধড়ে ।।

গ্রামবাসী সব এলো যখন, থেমেছে সকল যুদ্ধ ।
লজ্জায় জিভ কাটল কালী, সবাই হল মুগ্ধ ।।

সেদিন হল কালীর পূজা, কালী সবার মা ।
কেউ বা বলে, না! না! এত লক্ষ্মী প্রতিমা ।।

মা হয়ে তুই অভয় দিলি, শয়তানেরে শিক্ষা ।
এখনও তবু তোর মেয়েরা করে প্রানের ভিক্ষা ।।

শক্তি দে মা, সাহস দে মা, করি শত্রুর ক্ষয় ।
ভক্তি ভরে প্রনমি তোরে, করব অসুর জয় ।।
 
                                 -Moumita Sahu




ভালো হয়ে থেকো

কান্নাকাটি করেনা সোনা
হাসি মুখে মাখো ।
লক্ষ্মী হয়ে খেয়ে ঘুমাও
ভালো হয়ে থেকো ।।

অ আ বলো জোরে জোরে
একের নামতা লেখো ।
প্রথম দিনে স্কুলে গিয়ে
ভালো হয়ে থেকো ।।

একা কোথাও বেরিওনা
ঘরের ভেতর থেকো ।
বন্ধু বান্ধব দুরেই রেখো
ভালো হয়ে থেকো ।।

শরীর তোমার বড়ো হবেই
মনকে ধরতে শেখো ।
মনকে বাঁধো বুদ্ধি দিয়ে
ভালো হয়ে থেকো ।।

লেখা পড়া ভালোই হোল
চাকরি একটা খোঁজো ।
বিদেশ বিভূঁই যেওনা যেন
ভালো হয়ে থেকো ।।

চাকরি বাকরি হোল যখন
এবার বিয়ে করো ।
একা থাকা কঠিন ব্যাপার
ভালো হয়ে থেকো ।।

একটা বছর ফুরিয়ে গেলো
এক নিমেষের মতো ।
এবার একটা সন্তান নাও
ভালো হয়ে থেকো ।।

সন্তান সব বড় হোল
তাদের কথা শুনো ।
বেশি কথা বোলোনা যেন
ভালো হয়ে থেকো ।।

কষ্ট কিছু হোল না পেতে
ঘুমের ঘোরেই গেলো ।
যেথায় থাকো সুখে থেকো
ভালো হয়ে থেকো ।।

                          -Moumita Sahu